এ আর আরিফ, সিবিএন ;

কক্সবাজারের রামুতে বিনোদন পার্কের সামনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে র‌্যাব-১৫। শনিবার (২৩ মে ২০২৬) সকাল ও দুপুরে পরিচালিত এ ধারাবাহিক অভিযানে মোট ৩২ হাজার পিস ইয়াবা এবং একটি সিএনজি অটোরিকশাসহ তিনজন পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দুইজন নারী রয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং গ্রামের মহোসিনের ছেলে মোজ্জামেল হক (৪৭), রামু উপজেলার ধয়াপালং এলাকার সোলেমানের মেয়ে মাজেদা আক্তার মমতাজ (৪৩) এবং উখিয়া উপজেলার মরিচা এলাকার শামসুল আলমের মেয়ে বুলবুল আক্তার (৩৮)।

র‌্যাব-১৫ সূত্রে জানা যায়, মাদকের একটি বড় চালান পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সকাল থেকে রামু থানাধীন বসুন্ধরা অ্যামিউজমেন্ট পার্কের সামনে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে একটি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করে র‌্যাবের একটি চৌকস আভিযানিক দল।

তল্লাশির সময় সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে চেকপোস্টের দিকে আসা একটি সন্দেহভাজন সিএনজি অটোরিকশাকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। এ সময় র‌্যাবের সংকেত উপেক্ষা করে চালক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আভিযানিক দল ধাওয়া করে সিএনজিসহ চালক মোজ্জামেল হককে আটক করতে সক্ষম হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিএনজিতে তল্লাশি চালিয়ে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজিটি জব্দ করা হয়।

প্রথম অভিযানের পরও এলাকায় র‌্যাবের নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়। এর মধ্যে আনুমানিক সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে আরেকটি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একই চেকপোস্টে আরেকটি সন্দেহভাজন সিএনজি থামানো হয়। সিএনজিতে থাকা দুই নারী যাত্রীর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে নারী র‌্যাব সদস্যদের সহায়তায় তাদের দেহ ও সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করা হয়।

এ সময় তাদের ব্যাগের ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৬টি বান্ডেল থেকে আরও ১২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তাদের হেফাজত থেকে মাদক বিক্রির ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং দুটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-১৫ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবার বড় চালান সংগ্রহ করত। পরবর্তীতে রামু, উখিয়া, চকরিয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব মাদক পাচার ও বিক্রি করত।

উদ্ধারকৃত ৩২ হাজার পিস ইয়াবা, জব্দকৃত আলামত এবং গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের রামু থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে র‌্যাব নিশ্চিত করেছে।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন এবং সীমান্ত জেলাকে মাদকমুক্ত করতে এ ধরনের কঠোর ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।